Ingenuity – মঙ্গলের প্রথম হেলিকপ্টার
Credits: NASA/JPL-Caltech |
মঙ্গলে গ্রহের বায়ুমন্ডলে প্রথম
সফল উড্ডয়নকারী কোন আকাশযান হচ্ছে ইনজেনুয়িটি ( Ingenuity) ।
এটি মূলত একটি ক্ষুদ্রাকৃতির হেলিকপ্টার যেটি সম্প্রতি NASA মঙ্গলে প্রেরণ করে। প্রাকৃতিক কারণেই বিজ্ঞানিদের
কাছে মঙ্গলে এটিকে পাঠানো এবং এর উড্ডয়ন ছিল
চ্যালেঞ্জিং।
মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে ৩১৮.৫৯ মিলিয়ন কি.মি. দূরে অবস্হিত একটি গ্রহ। আকারের বিচারে এটি সৌরজগতের ৭ম
বৃহত্তম গ্রহ। গ্রহটি লাল গ্রহ বা Red Planet নামেও পরিচিত। বিজ্ঞানিদের ধারণা এখানে পাওয়া যেতে পারে জীবনের অস্তিত্ব এবং
বহু বছর ধরে নাসা ও বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণাকারী সংস্হা এ বিষয়ে গবেষণা করে আসছে। তারই ফলশ্রুতিতে NASAসম্প্রতি মঙ্গলে একটি মহাকাশযান প্রেরণ করে। মহাকাশযানটির নাম পারসিভারেন্স
রোভার বা Perseverance Rover। রোভারটিগত ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১
সালে মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে অবতরণ করে। এটির মূল কাজ হবে ভূ্তলের উপরের পাথর গুলো পরীক্ষা নীরিক্ষা
করা এবং চারপাশের ছবি তোলা। কিন্তু এবারের এই মহাকাশযানটির সাথে পাঠানো হয়েছে আরো একটি মহাকাশযান। সেটিই আমাদের আজকের আলোচ্য
বস্তু ইনজেনুয়িটি বা মঙ্গলের হেলিকপ্টার।
হেলিকপ্টারটিকে মূলত রোভারের পেটের ভিতরে স্হাপন করা হয়েছিল মঙ্গলে পাঠানোর জন্য। রোভার টি পৌছাবার পর
১৯ এপ্রিল এর ভিতর থেকে হেলিকপ্টারটিকে উন্মুক্ত করা হয় উড়ানোর জন্য। সোমবার নাসার এই হেলিকপ্টারটি
পৃথিবীর বাইরে কোন গ্রহে প্রথমবারের মত নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়নের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি
করেছে। NASA'র পারসিভারেন্স রোভার
থেকে সকাল ৬:৪৬ (ইডিটি) প্রাপ্ত ডেটা থেকে ইনজেনুয়িটি
টিম খবরটি নিশ্চিত করে।
হেলিকপ্টার টি তৈরী করে JPL ( Jet Propulsion Laboratory) এর একটি টিম। খরচ করতে হয়েছে অতিরিক্ত
৮৫$
মিলিয়ন। ১.৬ ফুট উচ্চতা নিয়ে এর
ওজন ৪পাউন্ড। সৌরচালিত হেলিকপ্টারটি
১০ ফিট বা তিন মিটার উচ্চতায় ত্রিশ সেকেন্ড ধরে নিয়ন্ত্রিতভাবে ভেসে থাকতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে এটি সফলভাবে
লাল গ্রহের মাটিতে অবতরণ করে৷ উড্ডয়ন থেকে অবতরণের জন্য মোট সময় লাগে ৩৯.২ সেকেন্ড।
ইনজেনুয়িটির প্রথম ফ্লাইট ছিল সম্পূর্ন স্বয়ংক্রিয়, এটিকে চালনা করে হয়েছে এর অনবোর্ড
গাইডেন্স, নেভিগেশন এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের দ্বারা। এর কন্ট্রোলিং সিস্টেমও প্রস্তুত
করে JPL। যেহেতু এটাকে চালনা করার
জন্য লক্ষ লক্ষ মাইল অতিক্রম করে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করতে
হবে তাই এটিকেপৃথিবী থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ
করাও সম্ভব না। সঙ্গত কারণেই এটিকে অটোনোমাস
করে তৈরি করা হয়।
হেলিকপ্টারটির প্রথম উড্ডয়ন ছিল অজানা আশঙ্কায় পরিপূর্ণ। কারণ মঙ্গলের অভিকর্ষ বল খুবই
কম,
পৃথিবীর
তিন ভাগের একভাগ মাত্র৷ এছাড়াও এখানকার বায়ুমন্ডল অনেক পাতলা, বাতাসের চাপ পৃথিবীর
তুলনায় মাত্র এক শতাংশ। অর্থাৎ ইনজেনুয়িটির ৪ ফুট প্রশস্থ পাখা ওড়ার জন্য খুব কম বাতাসের
অণুর সংস্পর্শে আসতে পারে, যা এর উড্ডয়নের সম্ভাবনাকে ক্ষীন করে দেয়। কিন্তু বিজ্ঞানিরা এই
বাধা অতিক্রম করার মত করেই এটির ডিজাইন সম্পন্ন করেছেন। তাছাড়াও হেলিকপ্টারটি স্মার্ট
ফোন ইন্ডাস্ট্রির অনেক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছে, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মত এগুলো
কে স্পেসে পরীক্ষা করার সুযোগ পাওয়া গেল।
ইনজেনুয়িটির সফল উড্ডয়ন বিজ্ঞানিদের
কাছে মহাকাশ গবেষণার এক নতুন দ্বার উন্মোচন করে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। একই সাথে এটি একটি ঐতিহাসিক
ঘটনা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসের একটি মাইল ফলক।

জেনে উপকৃত হলাম 😊
ReplyDeletePost a Comment